1. [email protected] : admins :
  2. [email protected] : Kanon Badsha : Kanon Badsha
  3. [email protected] : Nayeem Sajal : Nayeem Sajal
  4. [email protected] : News Editir : News Editir
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কায়েস আরজু-শিরিন শিলা “গবেট” আজ থেকে সড়ক বন্ধ করে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে ফেসে যাচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, হারাতে পারেন চাকরি সালমান রাজের ‘বধুরে’ গানে হান্নান শাহ-এস কে মাহি সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবে সদস্যদের সাথে ঢাকার বার্তার চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হাসপাতালে ভর্তি অভিনেত্রী সেঁজুতি খন্দকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগী জাকির হোসেন’কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩ অনুমতি ছাড়াই বিদেশে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘তুফান’ ফ্রান্সে সম্মাননা পেলেন তারকা দম্পতি অনন্ত-বর্ষা বিএনপি-আ.লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আজ

আ.লীগের ভরসার দুই কৌশল

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১১ আগস্ট, ২০২৩

খান মেহেদী :- দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সরকারের ওপর দেশি-বিদেশিদের চাপমুক্ত হতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুটি কৌশল নিয়েছে। এ কৌশল দুটি দলকে ভরসা দিচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

দুই কৌশলের একটি হচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় থাকা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বিদেশিদের আস্থায় আনা। এ দুই কৌশলের একটি সফল হলেই দুশ্চিন্তা থাকবে না বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

দলটির নেতারা বলছেন, দেশি চাপ তেমন আমলে না নিলেও বিদেশি চাপ পাশ কাটানোর উপায় বের করা কঠিন হয়ে উঠছে সরকারের জন্য। তবে নানা ধরনের কৌশল ও চেষ্টা অব্যাহত রেখে চলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা  বলেন, টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনা দুটি উপায়ে চাপ কমাতে চান। একই সঙ্গে সরকারের পাশে থাকতে বিদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রথমত তিনি বিদেশি বন্ধুদের বিশ্বাস করাতে চাচ্ছেন আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে তার। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করা সম্ভব তা দেখিয়ে নজির স্থাপন করতে চান সরকারপ্রধান। তার এ চেষ্টায় কোনো ত্রুটি থাকবে না, এ অঙ্গীকার যেন বিদেশি বন্ধুরা আস্থায় নেয়, সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। আরেকটি উপায় হলো সংবিধানের বাইরে গিয়ে কেনো সিদ্ধান্ত নেবেন না তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, তার সরকার ও আওয়ামী লীগ আপসহীন নীতিতে অবলম্বন করবেন।

বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি ও তার মিত্ররা আগামী সংসদ নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়ে আসছে। তারা সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে অনড়। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলো সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিরা যেমন বাংলাদেশ সফর করছেন, তেমনি এখানে থাকা দেশটির রাষ্ট্রদূতও ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। সর্বশেষ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ঠিক করবে বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো। তারা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। ভারতও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে নির্বাচন কীভাবে হবে। তারা চায় পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন হোক।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উজরা জেয়া বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি বলে গেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে সংলাপকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র।

এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে বারবার বাংলাদেশের নির্বাচন, সভা-সমাবেশে হামলা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার প্রসঙ্গ আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বক দুর্নীতিবিরোধী সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউ ঢাকা সফরে বলেছেন, দুর্নীতি দমনে নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে জাতিসংঘও সরব হয়ে উঠেছে। ২৯ জুলাই বিএনপির ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় বিশ^সংস্থা প্রেসনোট প্রকাশ করেছে। সেখানে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধীদের বিক্ষোভ-সমাবেশের অধিকারকে সম্মান দেখানোর জন্যও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে। একইদিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সরকারকে ‘বেআইনি ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রাক-নির্বাচনী তথ্যানুসন্ধানী ঢাকা সফর করে গেছে। তারা নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনসহ নানা বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে। ঢাকা সফরে ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইমোন গিলমোরও বলে গেছেন, তারা নির্বাচনের আগে ও পরের পরিস্থিতির পর নজর রাখবেন। গত ১ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জানিয়েছেন, আসছে অক্টোবর দেশটি প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যারাই আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে চান এবং ঢাকা সফরে আসছেন, সবার কাছে আওয়ামী লীগ একটাই অবস্থান তুলে ধরছে। আর তা হলো সংবিধান অনুযায়ী চলতে চায় সরকার। সংবিধানের মধ্যে থেকে যেকোনো সমাধান বের করা হলে তাতে কোনো দ্বিমত থাকবে না সরকারের।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এ নেতারা আরও বলেন, এ অবস্থানে অনড় থাকলে বিদেশিদের তৎপরতা কিছুটা দুর্বল হবে। সংবিধানের বাইরে যেতে সরাসরি বিদেশিদের কিছু বলার আইনি ভিত্তি থাকবে না। এর মধ্য থেকে মাঝামাঝি অবস্থান বের হলে সেটাও মানার সম্ভাবনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলটির কৌশল ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। দুটি কৌশলের ওপর ভিত্তি করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে।

সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ২০১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন দেশে হবে না। আওয়ামী লীগে সে ধরনের নির্বাচনের প্রস্তুতিও নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা ও আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলের সভাপতি। এবার মনোনয়নেও বেশ পরিবর্তন নিয়ে আসা হবে।

এ নেতা বলেন, দলের প্রকাশ্য বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যোগ্যতার মানদন্ডে যারা উত্তীর্ণ হবেন মনোনয়ন তারাই পাবেন। তিনি সবার খোঁজ নিচ্ছেন। কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনা জিতিয়ে আনবেন তাদের প্রার্থী হওয়ার চিন্তাও করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আশার কথা হলো সংবিধানের বাইরে গিয়েই রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে, এমন অবস্থান এখন পর্যন্ত কোনো বন্ধু দেশই নেয়নি। এমন চাপ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউ দেয়নি। অবশ্য সরকারও যে সেই চাপ মেনে নেবে, তা নয়।’

তিনি বলেন, ‘সমাধান যাই হবে সংবিধানের মধ্য থেকেই হতে হবে এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অবস্থান পরিষ্কার। বিদেশি তৎপরতা হলো সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরেছেন তার দল হারুক বা জিতুক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিনি বদ্ধপরিকর।’

ফারুক খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্তরিকতা দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার রয়েছে বলেই দলের সংসদ সদস্যদের তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের সম্পর্ক রয়েছে, তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে আগামী নির্বাচনে।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে সমাধানের চাপ বিদেশিরা দিতে পারবে না। এটা আইনের লঙ্ঘন হবে। আওয়ামী লীগ এ অবস্থানে কোনো নড়চড় করবে না, এ বার্তা বিদেশি বন্ধুদের আগেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এ অবস্থানটাই ভরসা। সংবিধানের মধ্যে থেকে সংকট সমাধানে উপায় থাকলে তাতে সরকার ও আওয়ামী লীগ সে পথে হাঁটবে। এ অবস্থানের কথাও বিদেশিরা জানে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিদেশিদের চাওয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাওয়ার মধ্যে ফারাক নেই। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2023 Somoyexpress.News
Theme Customized By BreakingNews